স্মরণের আবরণে শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী জেসমিন আকতার

আমার বাংলা টিভি ডেস্ক : আজ ২রা মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। শতাব্দীর স্বনামধন্য আধ্যাত্মিক সুফি সম্রাট, ভারতীয় উপমহাদেশে আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলার জমিনে মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার প্রথম তাত্ত্বিক বিশ্লেষক ও রূপ উন্মোচক—শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর ৪৪তম ওফাত দিবস আজ।

শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর জন্ম ১৮৯৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি (১৩ ফাল্গুন ১২৯৯ বঙ্গাব্দ) এবং ওফাত ১৯৮২ সালের ১৬ জানুয়ারি (২রা মাঘ ১৩৮৮ বঙ্গাব্দ)। তিনি ছিলেন হযরত গাউছুল আজম মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর পবিত্র রক্ত ও প্রিয় পৌত্র।

আদর্শিক সংগ্রামের প্রতীক ‘দেলাময়না’ দাদাজান গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী আদর করে তাঁকে ডাকতেন ‘দেলাময়না’। নামের অর্থের মতোই তিনি ছিলেন ধর্মীয় কুসংস্কার, সামাজিক অন্যায় ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য ও আদলে মোতলাক প্রতিষ্ঠায় আজীবন তিনি ছিলেন এক মসীযোদ্ধা।

পিতৃ-মাতৃহীন অবস্থায় শৈশব থেকেই গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর স্নেহ ও ছোহব্বতে বেড়ে ওঠা শাহসূফী দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীকে ভবিষ্যতের গদী শরীফের উত্তরাধিকারী হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি রাসূল পাক (দঃ)-এর সুন্নাহ ও চরিত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

আত্মবিলয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত,

শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী নিজের সত্তাকে সম্পূর্ণভাবে দাদাজানের সত্ত্বায় বিলীন করে দিয়েছিলেন। তাঁর কালামেই এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়—
“আমাকে দুই ভেবোনা, দুই জেনোনা,
আমার নামে আলাদা কোনো ওরশ ফাতেহা করোনা।”
বহুমাত্রিক প্রতিভার আলোকিত মানুষ
তিনি ছিলেন, একাধারে সুফি সাধক, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও আধুনিক রেনেসাঁস ব্যক্তিত্ব। এলাকার উন্নয়নে স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, রাস্তা ও ডাকঘর নির্মাণসহ অগণিত সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছেন। ছোট-বড় মিলিয়ে ১২টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি অনাথ, দুস্থ ও নির্যাতিত মানুষের আশ্রয়দাতা হিসেবেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত।

আহমদী আদর্শের প্রচারক
গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর ত্বরিকার মূলনীতি ‘উসূলে সাবআ’ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে তিনি লেখনির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী আদর্শবান, চরিত্রবান ও কল্যাণকামী মানবগোষ্ঠী গড়ে তোলা।
কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর একনিষ্ঠ সেবক ও শেষ জীবনের সাথী হারুন অর রশীদ ভাণ্ডারীর কবিতায় তাঁর গুণগরিমা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে—

“হযরতের প্রেমের খনি, ত্রিজগতে নয়নমণি
সিংহাসনের সুলতান তিনি, সর্বগুণে গুণী তিনি।”
আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার সবকিছুর সারকথা—শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী ছিলেন রাসূলাল্লাহ (দঃ)-এর হোসাইনী নিশানের ধারক, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং হযরত আলী (রাঃ)-এর বেলায়তের এক উজ্জ্বল দ্বার উন্মোচক।

আল্লাহ পাক যেন আমাদের সবাইকে তাঁর আহমদী নিশানের তলে সমবেত হওয়ার তৌফিক দান করেন—এই প্রার্থনাই আজ তাঁর ওফাত দিবসে সকল ভক্ত ও অনুসারীদের।

লেখক:
জেসমিন আকতার
সহকারী শিক্ষক
ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মূঈনীয়া কামিল মাদ্রাসা