রবিবার , ২১ জুলাই ২০১৯ | রাত ৪:৫৯

এইমাত্র পাওয়া:

৥ আমার বাংলা TV: বিএনপির স্থায়ী কমিটি জরুরি বৈঠক বিকালে ৥
৥ আমার বাংলা TV: ১৫ দিনের সফরে লন্ডন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৥
 ৥ আমার বাংলা TV: যার জবানবন্দিতে ফেঁসে গেলেন মিন্নি ৥
 ৥ আমার বাংলা TV: হত্যা পরিকল্পনায় ছিল মিন্নিও : এসপি ৥
৥ আমার বাংলা TV: ’মুসলিম শিক্ষার্থীদের কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের প্রতিবাদে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ ৥
৥ আমার বাংলা TV: ৫ দিনের রিমান্ডে রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী ৥
৥ আমার বাংলা TV: পুকুরে জ্বলছে রহস্যময় আলো, দেখতে মানুষের ঢল ৥
৥ আমার বাংলা TV: রাজশাহীতে স্ত্রীকে হত্যা স্বামীর আত্মসমর্পণ ৥
৥ আমার বাংলা TV: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ৥
৥ আমার বাংলা TV: .তুরস্কে বাস উল্টে বাংলাদেশিসহ নিহত ১৭ ৥
৥ আমার বাংলা TV: ১৩ দিনে ৬৮০ কর্মকর্তা কর্মচারী বদলি করল তিতাস ৥
৥ আমার বাংলা TV: দলের কাঠগড়ায় ৬০ এমপি ৭৭ চেয়ারম্যান ৥
৥ আমার বাংলা TV: সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার জিম্বাবুয়ে ৥
৥ আমার বাংলা TV: আজ হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী ৥
৥ আমার বাংলা TV: শ্যামপুরে ৬টি অস্ত্র ও ১২৮ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৩ ৥
৥ আমার বাংলা TV: কক্সবাজারে ট্রাক উল্টে দুই রোহিঙ্গা নিহত ৥
৥ আমার বাংলা TV:’ দুর্নীতির প্রশ্নে সরল বিশ্বাস কী, পরিষ্কার করুন: দুদক চেয়ারম্যানকে কাদের ৥
৥ আমার বাংলা TV: ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা প্রিয়াংকা গান্ধী আটক ৥
৥ আমার বাংলা TV: অবশেষে সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসা সিসি ক্যামেরার আওতায় ৥
৥ আমার বাংলা TV: সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, হার্টপয়েন্টে ফাটল ৥
৥ আমার বাংলা TV:ফের কুলাউড়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, ৩ ঘণ্টা পর চালু ৥
৥ আমার বাংলা TV: সুনামগঞ্জে হাওরের মাছ ধরতে গিয়ে বাবা-ছেলের মৃত্যু ৥
৥ আমার বাংলা TV: এডিস মশা নিধনে নিজেদের সচেতন হতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৥
৥ আমার বাংলা TV: গণতন্ত্র রুদ্ধ করতেই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী ৥
৥ আমার বাংলা TV: রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ৥
৥ আমার বাংলা TV: ধোনিকে নিয়ে নতুন বোমা ফাটালেন গম্ভীর ৥
৥ আমার বাংলা TV: ১/১১ সময়ে আ.লীগের আন্দোলনে খালেদার মুক্তি মেলে ৥
৥ আমার বাংলা TV: জিম্বাবুয়ের সদস্যপদ স্থগিত করলো আইসিসি ৥
৥ আমার বাংলা TV: মুন্সীগঞ্জে অ্যাম্বুলেন্স চালক আটক ৥
৥ আমার বাংলা TV: দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত ৥
৥ আমার বাংলা TV: লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৥
৥ আমার বাংলা TV: সততা ও নিষ্ঠার সাথে সেনাদের কাজ করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ৥
৥ আমার বাংলা TV: সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের পাশে কবরের জায়গা চাইলেন রওশন ৥
৥ আমার বাংলা TV: বনানীতে প্রস্তুত হচ্ছে এরশাদের চির বিদায়ের ঘর ৥
৥ আমার বাংলা TV: বন্যা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি প্রস্তুত আওয়ামী লীগ: প্রধানমন্ত্রী ৥
৥ আমার বাংলা TV: বন্যার তথ্য ফোন করে নম্বরে ০২৯৫৭০০২৮ জানা যাবে ৥
৥ আমার বাংলা TV: নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ফের রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়লো প্লেন ৥
৥ আমার বাংলা TV: ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ফাইনালে আম্পায়ার থাকবেন যারা ৥
৥ আমার বাংলা TV: বান্দরবানে সাথে সারাদেশে যোগাযোগ বন্ধ পানিবন্দি প্রায় দশ হাজার পরিবার ৥
৥ আমার বাংলা TV: ভিসা না পাওয়ায় নাসায় যাওয়া অনিশ্চিত টিম অলিকের ৥
৥ আমার বাংলা TV: গলায় বিধেঁছে মাছের কাঁটা ? জেনে নিন ছাড়িয়ে নেওয়ার ৫ উপায় ৥
৥ আমার বাংলা TV: ভৈরবে ছিনতাইকারী চক্রের ৩ সদস্য আটক ৥
৥ আমার বাংলা TV: ’ঢাকার দোহারে ইয়াবাসহ যুবক আটক ৥
৥ আমার বাংলা TV: চীনে বন্যার প্রকোপে ৬১ জনের প্রাণহানি ৥
৥ আমার বাংলা TV: মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে দ্বিতীয় দিন বাস চলাচল বন্ধ ৥
৥ আমার বাংলা TV: লোককবি পাগলা কানাই এর ১৩০তম প্রয়াণ দিবস আজ ৥
৥ আমার বাংলা TV: ফেসবুকে পদ্ধা সেতু নিয়ে গুজব ছড়ানোয় র‌্যাব-৯ এর হাতে আটক-১ ৥
৥ আমার বাংলা TV: জমে উঠেছে স্বরূপকাঠির আটঘরের শত বছরের ভাসমান নৌকার হাট ৥
৥ আমার বাংলা TV: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন শনিবার ৥
৥ আমার বাংলা TV: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বিল পাস ৥
৥ আমার বাংলা TV: যে কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ ৥
৥ আমার বাংলা TV: ধুনট থানায় নারী পেটানোয় পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড ৥
৥ আমার বাংলা TV: চাঁদপুরে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর দায়ে আটক ৪ ৥
৥ আমার বাংলা TV: মানিকগঞ্জে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গৃহশিক্ষক গ্রেফতার ৥
৥ আমার বাংলা TV: তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, হলুদ সংকেত জারি ৥

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি।

আমার বাংলা TV : বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি থৈ থৈ করছে বাড়ির চারপাশে। কারও কারও ঘরেও প্রবেশ করেছে তা। এ অবস্থায় ঘর থেকে বের হওয়ার জো নেই বাসিন্দাদের। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েই পানিবন্দি অবস্থায় এসব মানুষের দিন-রাত কাটছে। দুর্ভোগের শেষ নেই তাদের। পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত ত্রাণও। রয়েছে খাবার পানির সংকট। অনেকেই ঢলের পানি দিয়ে রান্না ও থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করছেন।অতি ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দেয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।গত ২৪ ঘন্টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ৯৩টি পানি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, সোমেশ্বরী, কংস, হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, ধরলা, তিস্তা, ঘাগট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা এই ১৫টি নদীর পানি ২৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ৭৯টি পয়েন্টে বৃদ্ধি ও ১১টি পয়েণ্টে হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার ৭টি নদীর ১২টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বন্যা পূনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে মেডিকেল টিম এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামি কয়েক দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, তাতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, জামালপুরে ভাঙনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে এবং লালমনিহাটে তিস্তা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের নদ-নদীগুলোর ৬২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট নির্ধারণ করেছে, এর মধ্যে ২৬টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বন্যা পরিস্থিতির এই নাজুক অবস্থা সামাল দিতে সরকারের প্রস্তুতির খবরও এসেছে। সচিবালয়ে শুক্রবার ছুটির দিনেও আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির এক সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান।এ সময় ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল পর্যন্ত লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার এবং নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থির অবনতি হয়েছে। উজানে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে যমুনা নদীতে পানি আরও বাড়বে। পাশাপাশি উজানে গঙ্গার পানি বাড়ায় বালাদেশে পদ্মা অববাহিকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ইতোমধ্যেই নদীর ১৪টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার, হবিগঞ্চে খোয়াই নদীর পানি বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদীর পানি কমলাকান্দা পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, কংস নদীর পানি জারিয়াজাজইল পয়েন্টে ৭০ সেন্টিমিটার, সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারি পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটার ও বান্দরবান পয়েন্টে ১৭৭ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি অমলসিদ পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার ও চিলমারি পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও, সুনামগঞ্জের চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার, পিয়াইন নদীর পানি ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডাইকি, বটেরখাল ও বোকা নদীর পানিও ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা : অতি ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দেয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘন্টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ৯৩টি পানি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, সোমেশ্বরী, কংস, হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, ধরলা, তিস্তা, ঘাগট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা এই ১৫টি নদীর পানি ২৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ৭৯টি পয়েন্টে বৃদ্ধি ও ১১টি পয়েণ্টে হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার ৭টি নদীর ১২টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।বন্যা পূনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে মেডিকেল টিম এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।

নীলফামারী জেলায় তিস্তা নদীর পানি আজ বিপদসীমার ৩০ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেস্টিত প্রায় ১৫ টি চর গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটায় বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে নেওয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শাহিনুর আলম বলেন, ‘বন্যাকবলিত ডিমলা উপজেলায় ১৫০ মেট্রিকটন চাল, এক হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।এসব বিতরণের কার্যক্রম চলছে। আরো নূতন করে ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।আজ বেলা ১২টায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার মথুরাপাড়ায় যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল জানান, ২ হাজার কার্টুন শুকনা খাবার, ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লাখ টাকা হাতে রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বন্যা প্রবন এলাকা সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে।

৫ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ৬টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি শনিবার ৪টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সুনামগঞ্জ-হালুয়ারঘাট সড়ক ভেঙে সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়নের একাংশ, সুরমা ইউনিয়নের একাংশ, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের একাংশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই সড়কের ভাঙন বড় হচ্ছে। এই ভাঙন দিয়ে সুরমা’র পানি কোরবাননগরের ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে। শহরের নবীনগর, হাছননগর, শান্তিবাগ, নতুনপাড়া, বাঁধনপাড়াসহ পূর্বাঞ্চলে ঘরবাড়িতে পানি ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া জানান, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, দোয়ারাবাজার উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা, জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থির অবনতি হয়েছে। চরাঞ্চলের প্রায় দু’শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানিও বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচরে নদী ভাঙনের কারণে ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

এদিকে সদরের হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব, উলিপুর উপজেলা বজরা ইউনিয়নের চাঁদনির চর বজরায় এবং রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুর হেলান গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে ।কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, হাফিজুর রহমান জানান, বন্যা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৫০ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ২ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট উপজেলা পর্যায়ে বন্টন করা হয়েছে। মজুদ আছে ১৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ টাকা।শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী রয়েছে ৫ হাজার পরিবার। প্লাবিত গ্রামগুলোর কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, রোপা আমন ধানের বীজতলা, সবজি, পুকুরের মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশংকা উপজেলা প্রশাসনের। তবে যেকোন পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে বলে জানান ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, ৬৮ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা আংশিক ও ৪৪ হেক্টর জমির সম্পূর্ণ এবং ১১ হেক্টর জমির সবজি আবাদ আংশিক ও ৮ হেক্টর জমির সম্পূর্ণ আবাদ ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল হক বলেন, বন্যা পরিস্থিতি এখনও অবনতি হয়নি। তবে কিছু নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছি। এজন্য একটি বন্যা কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।

টাঙ্গাইলে জোয়ারের পানি আসার শুরুতেই যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বর্ষার শুরুতেই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়ন ও ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি যমুনার পেটে চলে যাচ্ছে।কুষ্টিয়ায় পদ্মা-গড়াই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বন্যা বা বড় ধরণের ক্ষতির আশংকা নেই।কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কুন্ডু জানান, গত তিনদিনে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪ সেন্টিমিটার। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর হাডিংঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এখানে বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার নির্ধারণ রয়েছে। গড়াই নদীর রেলসেতু পয়েন্টে ৬ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এখানে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার নির্ধারণ আছে।

বিপদ সীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি : জামালপুর জেলার ইসলামপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীতে শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।যমুনা থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে ইতিমধয়েই প্লাবিত হয়েছে চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি, দেওয়ানপাড়া, ডেবরাইপেচ, বলিয়াদহ, সিংভাঙ্গা, পশ্চিম বামনা, পূর্ববামনা ও গিলাবাড়ী অঞ্চল সমূহের বিস্তীর্ণ জনপদ। শনিবার বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেঙ্গে পড়েছে দেওয়ানপাড়া গ্রামের অন্তত ৩০টি বসতভিটা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা আশপাশের উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

নেমে আসছে পাহাড়ি ঢল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ের ঢল ও ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জেলার সোমেশ্বরী, উব্ধাখালি, ধনু ও কংশ নদীর পানি বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সেই সাথে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।শনিবার (১৩ জুলাই) বন্যা দুর্গত এলাকার জন্যে সরকারি ভাবে আরো ত্রানের চাল বরাদ্দ দেয়াসহ শুকনো খাবারের প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।স্থানীয় জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বন্যার্তরা জানিয়েছেন, ১৫ টি ইউনিয়েনের তিন শতাধিক গ্রামে পানি ঢুকেছে। এসব গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন। এদের মধ্যে অন্তত ছয় শতাধিক পরিবারের ঘরের ভিতরে পানি ঢুকেছে। তারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক এলাকায় প্রশাসনের ত্রান এখনও না পৌছানোর অভিযোগ করেছেন বন্যার্তরা।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতভর বৃষ্টিতে দুর্গাপুরের গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কুল্লাগড়ায় নদী ভাঙ্গন ধরেছে। এতে করে কুল্লাগড়ার পুরো ইউনিয়ন হুমকিতে পড়েছে। বালির বস্তা ফেলে এ ভাঙন ঠেঁকানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন । বারহাট্রায় বাউশি ইউনিয়নের পাশাপাশি নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আসমা ও সাহতা ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম। এতে করে দূর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বারহাট্রা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ত্রাণ পৌছে দিচ্ছেন বন্যার্তদের কাছে। জেলা প্রশাসন থেকে নতুন করে ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আরও ৯০০ প্যাকেট শুকনো খাবারও পাঠানো হয়েছে। নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে বন্যার্তদের সেবা দিতে স্থানীয় প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বন্যা এলাকায় ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়েছেন। পর্যাপ্ত পরিমানে ত্রাণ রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আরো ত্রাণ আসবে। রোববার জেলা সদর থেকে নতুন আরো ত্রাণ পাঠানো হবে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। উব্ধাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। সোমেশ্বরী ও কংশের পানি বিপৎসীমার ছুই ছুই অবস্থায় প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্গাপুরের বিজিবি ক্যাম্প, লোকনাথ আশ্রমসহ কুল্লাগড়া ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালির বস্তা দিয়ে ওই সব ভাঙন রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে।জেলা সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম জানান, বন্যার্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে এলাকায় মেডিকেল টিম ও স্বাস্থ্য সহকারিরা কাজ করছেন। স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেয়া হয়েছে । বন্যা কবলিত এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলা শেষ না হওয়া নাগাদ কাউকে ছুটি দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।হাতীবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।শনিবার (১৩ জুলাই০ সকালে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহ আরও বেড়ে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে পানির প্রবাহ ছিল বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপরে। ফলে রাতেই নদী তীরের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হয়। এ নদীর পানির তোড়ে উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নে একটি পাকা ও কাঁচা রাস্তা ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলার গড্ডিমারী, শিংগীমারী , সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ি ও পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। গড্ডিমারীর তালেব মোড়ের সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই এলাকার সঙ্গে উপজেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। চরাঞ্চলের রাস্তা ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ৫০০ মিটার রাস্তা ও ষ্টেশন থেকে হাটখোলা সংযোগ সড়কের পাকাকরণ কাজের ৪০০ মিটার রাস্তা ভেঙ্গে যেতে দেখা গেছে।উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ। এদিকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

সুরমা অববাহিকায় দেড় লাখ লোক পানিবন্দি : ঢল ও বর্ষণজনিত কারণে বৃহত্তর সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনামগঞ্জে ৩শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ হয়েছে অর্ধেকেরও বেশী। সিলেটে ৬০ প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের অন্তত দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই তিন জেলায় এক হাজার ৯৯৩ হেক্টরের আউস, বোনা আমন ও রোপা বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়।গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শহরের সাথে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাড়ির আঙ্গিনাসহ নিম্মাঞ্চলের অনেক বসত ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র খোলার খবর এখনও পাওয়া যায়নি।ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙনে প্লাবিত দুই গ্রাম, ৫ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পৌর এলাকার রামপাশা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে দুইটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৫ শতাধিক লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে মনু নদী বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার, ধলাই নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলেন জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী।তিনি বলেন, রাত ২টার দিকে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রামপাশা এলাকায় ধলাই নদীর প্রায় ৭০ ফুট বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। তবে সকাল থেকে পানি কমছে। পানি কমে গেলে বাঁধ দ্রুত মেরামত করা হবে। ধলাই নদীর পানিতে ৮, ৯ ও সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে রাস্তাঘাট কিছু বাড়ির আঙ্গিনায় পানি উঠেছে। তবে পানি বাড়তে থাকলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

উজানের ভারতীয় ঢলের পানি নেমে এসে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ধলাই নদীতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এ সময় পানি বিপদ সীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ক্রমে পানি বেড়ে রাত ২টায় রামপাশা গ্রামের শ্যামল পাল চৌধুরীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০০ ফুট পরিমাণ প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে রামপাশা ও কুমড়াকাপন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।কমলগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ‘এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ দীর্ঘদিন যাবত ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে ৪টি পরিবার যথাক্রমে জয়ধন মালাকার, যোগিন্দ্র মালাকার, মনিন্দ্র মালাকার ও সুনিল মালাকারের পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে শনিবার পর্যন্ত রামপাশা গ্রামের শ্যামল পাল চৌধুরী, নির্মল পাল চৌধুরী, প্রত্যুষ ধর, প্রতীম ধর, পদন্য পাল, অমর পাল চৌধুরী, মনির হোসেন, খোকন মালাকার, গৌতম কর, সত্তার মিয়া, নিধু করসহ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন ও ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার বলেন, ‘গভীর রাতে বাঁধ ভেঙ্গে ঢলের পানি প্রবেশ করে এ প্লাবনের সৃষ্টি করেছে। প্লাবনের পানিতে রামপাশা ও কুমড়াকাপন গ্রামের ব্যাপক এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে পানি গিয়ে ছাইয়াখালি হাওরে জমা হতে শুরু করে। কাউন্সিলররা আরও বলেন, ‘আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন রামপাশা ও কুমড়াকাপন গ্রামসহ পুরো কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর উপর সার্বিক নজরদারি করছে।’ঘটনাস্থলে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধসহ পুরো ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে পাথরের ব্লক স্থাপনে একটি প্রস্তাব ২ মাস আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাব পাশ হলে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হবে। আপাতত শুক্রবার রাতে ভেঙ্গে যাওয়া অংশে মেরামত কাজ করার জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী রামপাশা গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তাদের দুইজন কর্মকর্তা নজরদারি করছেন। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন।’তিনি বলেন, ‘উজানে তেমন বৃষ্টি না হলে আশঙ্কার কিছু নেই। তবে উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে পানি বেড়ে যেতে পারে।’বন্যায় বান্দরবানে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি : অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাত উপজেলায় প্রায় ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ বেশিরভাগ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় চতুর্থ দিনেও চালু হয়নি সারাদেশের সঙ্গে পর্যটন শহর বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ।

এছাড়াও পাহাড় ধস এবং সড়কে পানি উঠায় জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ রয়েছে। সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাইক্লোন সেন্টারে খোলা ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার বন্যা দূর্গত পরিবার।এদিকে, চট্টগ্রামের রাউজানে অতিবর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে ডাবুয়া খাল ও সর্তা খালের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে জনবসতি। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এই ভাঙনের ফলে উপজেলার নোয়াজিসপুর, চিকদাইর, ডাবুয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার পশ্চিম সুলতানপুরে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় পানির তীব্র সে্রাতে তালিয়ে গেছে আমনের বীজতলাসহ নানা ফসলি ক্ষেত। বন্ধ হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাকার্যক্রম।

এছাড়াও টানা একসপ্তাহ ধরে বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার সদরের ঢেউয়া হাজিপাড়া, মোহাম্মদপুর , পাহাড়তলী ইউনিয়নের খৈয়াখালী, দেওয়ানপুর ,বাগোয়ান ইউনিয়নের কর্ণফুলীতীরবর্তী কিছু এলাকা, নোয়াপাড়া, উকিরচর, পশ্চিম গুজরা ও বিনাজুরি ইউনিয়নের হালদানদী তীরবর্তী কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি কপাট। ফলে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ও উপজেলার প্রায় ১৫টি চর গ্রাম হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।এছাড়া তিস্তা বিপদসীমায় চলে যাওয়া নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধে আঘাত করছে স্রোত। ফলে বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। লালমনিরহাট জেলার তিস্তা ও ধরলা নদীর কূলবর্তী এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১২ হাজার পরিবার। বন্যার পানির কারনে হাতিবান্ধা উপজেলার গড্রিমারী তালেব মোড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাধেঁ ফাটল দেখা দিয়েছে। নতুন করে প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছে, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, আঙ্গোরপোতা, হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, সিন্দুরনা, পাটিকাপাড়া, সিঙ্গিমারী, গড্রিমারী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শোলমারী, আদিতমারী উপজেলার গোর্বধন, মহিষখোচা ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি এলাকার প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার কারনে জেলার ২০টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা করেছে। বন্যার্ত পরিবারগুলো হাটু পানিতে বসবাস করছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপূত্র ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা ও ব্রহ্মপূত্র নদ অববাহিকার ৮ ইউনিয়নের ৪৯টি গ্রামের প্রায় ১১ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে আমন বীজতলা, পাটক্ষেতসহ শাকসবজি পানির নীচে তলিয়ে গেছে।যমুনার পুর্ব পাড়ে অবস্থিত সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নদী ভাঙনে ৪ বছর আগেই পুরো উপজেলা পরিষদ ও সদরের ৭/৮টি গ্রাম বিলীন হয়েছে। হাতে গোনা আর ১০/১২টি গ্রাম থাকলেও ভাঙন রোধে কার্যকরি পদক্ষেপ না থাকায় তাও এখন বিলীনের পথে। গত দু’সপ্তাহের ব্যবধানে এখানে ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি, আবাদী জমি বিলীনের পর বোয়ালকান্দি, মহেশপুর ও বারবালা গ্রাম এখন অনেকটাই নিশ্চিহ্ন। এখানে থাকা ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসাসহ ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি রয়েছে হুমকিতে।

ত্রাণের অপেক্ষায় লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষ : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি থৈ থৈ করছে বাড়ির চারপাশে। কারও কারও ঘরেও প্রবেশ করেছে তা। এ অবস্থায় ঘর থেকে বের হওয়ার জো নেই বাসিন্দাদের। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েই পানিবন্দি অবস্থায় এসব মানুষের দিন-রাত কাটছে। দুর্ভোগের শেষ নেই তাদের। পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত ত্রাণও। রয়েছে খাবার পানির সংকট। অনেকেই ঢলের পানি দিয়ে রান্না ও থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করছেন।দুর্ভোগের এই চিত্র সুনামগঞ্জের সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার। এসব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ওইসব উপজেলার বেশিরভাগ সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫০০ ঘরবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। আর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বিশ্বম্ভরপুরের পলাশ ইউনিয়নের রাজঘাট গ্রামের দিলারা খাতুন, রেনুছা বেগম, জয়বানু জানান, পাঁচ দিন আগে তাদের ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করে। সেই থেকে চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছেন না। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে এনে রাখা ছিল সামান্য। অল্প অল্প করে তাই খাচ্ছেন।মাঝাইর গ্রামের আলী আশরাফ বলেন, বিশ্বম্ভরপুর কারেন্টের বাজার সড়কের পাশে আমার বসতঘর। এখানে কয়েক দিন হলো বন্যার পানি ঢুকেছে। এরপর থেকে আর চুলায় আগুন ধরানো যায়নি। বাজার থেকে চিড়াগুড় কিনে নিয়ে খাচ্ছি। একই গ্রামের আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমাদের এখন শুকনো খাবার প্রয়োজন। ঘরে চাল থাকলেও রান্না করার কোনও ব্যবস্থা নেই।

সলুকাবাদ ইউনিয়নের সাক্তারপাড় গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, মানুষ তো কোনও রকমে খেয়েপরে বেঁচে আছে। কিন্তু গবাদিপশু, হাঁসমুরগি নিয়ে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। প্রতিটি গোয়ালায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে গবাদিপশুকে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিতে হচ্ছে।’সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম বলেন, ‘সরকার ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু সবাই তা পাচ্ছে না। ত্রাণের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও ওষুধ বেশি দরকার।’লালপুর গ্রামের মাছচাষি মো. দারু মিয়া বলেন, ‘আমার গ্রামের আলাল মিয়া, রুহুল আমিন, জাহের মিয়া, বিরাজ মিয়া, জহুর মিয়া, মানিক মিয়া, লাল মিয়া, জয়নাল আবেদীনসহ ২৫ জন চাষির মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, বন্যার সময় রোগমুক্ত থাকতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করতে হবে। মাথা পর্যন্ত ডুবে থাকা টিউবওয়েলে পানি ব্যবহার করা যাবে না। সাপের কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া ছোট ছোট শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ সময় খাবারদাবারে সতর্ক থাকতে হবে।তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘জেলায় সবচেয়ে বেশি বন্যা আক্রান্ত উপজেলা তাহিরপুর। দক্ষিণ বড়দল, উত্তর বড়দল, শ্রীপুর দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর, বাদাঘাট, বালিজুড়িসহ ছয়টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আনুমানিক পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাত্র দুই হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে; যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। শুকনো খাবারের প্যাকেটের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন, সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ৪ থেকে ৮ দশমিক ৬-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। পানি এখন স্থির অবস্থায় রয়েছে। আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টি হবে ও পাহাড়ি ঢল নামবে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত থাকবে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, ‘এ পর্যন্ত জেলায় ৩০০ টন চাল, তিন হাজার ৭৬৫ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ আড়াই লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় নগদ ১০ লাখ টাকা, ৩০০ টন চাল ও চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দিয়েছে। প্রতি প্যাকেট শুকনো খাবারে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনিসহ সাড়ে ১৬ কেজি সামগ্রী থাকে। তবে এবার খাবারের প্যাকেটে মোমবাতি ও দেশলাই নেই।

আমার বাংলা নিউজ  /১৪ জুলাই / ২০১৯

 

About amarbangla

amarbanglanews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com