বুধবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৯ | রাত ১১:০৫

এইমাত্র পাওয়া:

৥ আমার বাংলা TV: চট্টগ্রামে বাস চালককে পিটিয়ে হত্যা, শ্রমিক ফেডারেশনের ধর্মঘট ৥
 ৥ আমার বাংলা TV: প্রধানমন্ত্রীর সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শেখ সেলিম ৥
 ৥ আমার বাংলা TV: প্রিয়জন হারানোর হাহাকার আজও ধ্বনিত হয় রানা প্লাজায় ৥
৥ আমার বাংলা TV: অপহরণের ৮ ঘণ্টা পর যুবক উদ্ধার, গ্রেফতার ৫ ৥
৥ আমার বাংলা TV: পোশাক খাত নিয়ে সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অসঙ্গতিপূর্ণ ৥
৥ আমার বাংলা TV: হামলার আগে বাগদাদীর প্রতি আনুগত্যের শপথ নেয় জঙ্গিরা ৥
৥ আমার বাংলা TV: শ্রীলঙ্কাকে ২ ঘণ্টা আগেই সতর্ক করেছিল ভারত ৥
৥ আমার বাংলা TV: ৩০ মিনিটেই শেষ পিএসজির বিশেষ জার্সি ‘নটরডেম ৥
৥ আমার বাংলা TV: আজ রাতেই লা লিগা ঘরে উঠতে পারে বার্সার ৥
৥ আমার বাংলা TV: ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ: প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট পাকিস্তান ৥
৥ আমার বাংলা TV: পাকিস্তানী কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার ৥
৥ আমার বাংলা TV: রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ৥
৥ আমার বাংলা TV: চাঁদপুরে ১৩ উপজেলার নবনির্বাচিতদের শপথ ৥
৥ আমার বাংলা TV: মুন্সীগঞ্জে প্রতিপক্ষের আঘাতে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু ৥
৥ আমার বাংলা TV: নেত্রকোনায় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ৥
৥ আমার বাংলা TV: সুস্থ থাকতে চাইলে বিয়ে করুন তাড়াতাড়ি ৥
৥ আমার বাংলা TV: প্রস্রাবের রং হলুদ হলে কী হয় ৥
৥ আমার বাংলা TV: বাংলাদেশে আইএসের কোনো খলিফা নেই ৥
৥ আমার বাংলা TV: সৌম্যের ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড ৥
৥ আমার বাংলা TV: তারেক রহমান মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে পরামর্শ দিলেন ৥
৥ আমার বাংলা TV: বাসচাপায় নিহত আবরার হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ২১ মে ৥
৥ আমার বাংলা TV: আন্দোলনেই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে : খন্দকার মোশাররফ ৥
৥ আমার বাংলা TV: কোহলিদের সঙ্গে তীরে এসে তরী ডুবল চেন্নাইয়ের ৥
৥ আমার বাংলা TV: প্রধানমন্ত্রীকে দেখলেই দাদু বলে জড়িয়ে ধরত জায়ান ৥
৥ আমার বাংলা TV: শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ২ পা ড্যামেজ ৥
৥ আমার বাংলা TV: লক্ষ্মীপুরে দগ্ধ রাউজানের সেই তরুণী আর নেই ৥
৥ আমার বাংলা TV: ভোলায় ছাত্রলীগ নেতার মোটরসাইকেল জব্দ, পুলিশের বিচার দাবি ৥
৥ আমার বাংলা TV: কলম্বো বিমানবন্দর থেকে পাইম বোমা উদ্ধার ৥
৥ আমার বাংলা TV: শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ ৥
৥ আমার বাংলা TV: উখিয়ায় বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২ রোহিঙ্গা মাদক কারবারি নিহত ৥
৥ আমার বাংলা TV: লক্ষ্মীপুরে তরুণী আগুনে দগ্ধ ৥
৥ আমার বাংলা TV: মাদ্রিদে গ্রেটার ঢাকা অ্যাসোসিয়েশনের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত ৥
৥ আমার বাংলা TV: শ্রীলঙ্কায় এবার মসজিদে পেট্রোল বোমা হামলা ৥
৥ আমার বাংলা TV: নুসরাত হত্যাকাণ্ড: আদালতে দোষ স্বীকার জোবায়েরের ৥
৥ আমার বাংলা TV: বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত ৥
৥ আমার বাংলা TV: পদ শূন্য নেই তবুও শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৥
৥ আমার বাংলা TV: চাঁদপুরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন ৥

মুঘল ঐতিহ্য সিকান্দ্রা

আমার বাংলা TV: সম্রাট আকবর মুঘল ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ও প্রতাপশালী একজন রাষ্ট্রনায়ক। তিনি ছিলেন দ্বীনে ইলাহির প্রবর্তক। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছরের মুঘল ইতিহাসে আকবরই শাসন করেছেন অর্ধ শতাব্দীরও বেশি (৫৩ বছর)। এত বেশি সময় ধরে অন্য কোনো সম্রাট ভারত শাসন করতে পারেননি। ৬৩ বছর বয়সে ১৬০৫ সালের ১৫ অক্টোবর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি ভারত উপমহাদেশের শাসক ছিলেন। এর পরই আওরঙ্গজেবের অবস্থান। তিনি শাসন করেছেন ৪৯ বছর।
মুঘল আমলে আগ্রা ছিল মুসলমানদের রাজধানী। আগ্রার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মুঘল ইতিহাসের অনন্য সব অধ্যায়। মুঘল ইতিহাসের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব সৌন্দর্য ও মহিমাকে উপলব্ধি করা যায় আগ্রা এসে। মুঘল আমলে নির্মিত আশ্চর্য সৌধগুলোর মধ্যে একটি হলো সিকান্দ্রা। মুঘল সম্রাটদের জীবদ্দশায় নিজের সমাধিস্থল নির্ধারণ করে যাওটা ছিল শখের বিষয়। সম্রাট আকবর নিজের সমাধিস্থল হিসেবে চয়ন করেন সিকান্দ্রাকে। তখন জায়গাটা ছিল জনমানবহীন নির্জন একটি জঙ্গল। পাখিদের কলকাকলিতে ছিল সদা মুখর। বেশ নিরিবিলি হওয়ায় জায়গাটা হয়তো সম্রাটের খুব পছন্দ হয়েছিল। জঙ্গল পরিষ্কার করে ১৬০৬ সালে ১১৯ একর জমিজুড়ে সৌধের নির্মাণকাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৬১৩ সালে তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন ছেলে জাহাঙ্গীর। বাবার পরিকল্পিত নকশা ধরেই নির্মাণ করেন তিনি সুবিশাল এই সৌধ।

আমাদের মাদ্রাসা থেকে সিকান্দ্রা খুব বেশি দূরের পথ নয়। বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষে আমরা ১৫ জন মিলে রওনা হলাম সেখানে। যে সম্রাট এত দাপটের সঙ্গে পুরো ভারত শাসন করেছেন, তার সমাধিটা এত কাছে থেকেও না দেখে পারা যায় না। ট্যাক্সিতে চড়ে আধঘণ্টার মধ্যে পৌঁছলাম সিকান্দ্রা গেটে। প্রধান সড়কের পাশেই এর অবস্থান। এক সময়কার নির্জন জায়গাটি এখন জনকোলাহলে পূর্ণ। তবে তাজমহলের মতো এতটা ভিড় নেই এখানে। ২০ রুপি করে টিকিট মূল্য। টিকিট কাউন্টার থেকে মূল গেটে যেতে একটুখানি পায়েচলা পথ। দুপাশে সারি সারি বাগান। পাখিদের কলকাকলিতে মুখর চারপাশ। যেন সেই ৪০০ বছর আগের সিকান্দ্রা। বাগানের সৌরভ গায়ে মাখতে মাখতে পৌঁছলাম মূল গেটে। হুবহু তাজমহলের গেটের মতো সুবিশাল। লাল বেলে পাথরে নির্মিত। অসাধারণ কারুকার্য খচিত। চারপাশে চারটি উঁচু মিনার। শোনা যায়, সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেছেন আকবরের সমাধিস্থল দেখে।

টিকিট দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম। চারদিকে চারটে গেট থাকলেও আজ শুধু প্রধান গেটটি উন্মুক্ত। প্রতিটি গেটেই রয়েছে অসাধারণ সুন্দর নকশা, যা লাল-নীল বা সোনালি রঙের পাথর দিয়ে তৈরি। গেট থেকে মর্মর পাথরে নির্মিত বড় একটি রাস্তা চলে গেছে সমাধিস্থল বরাবর। দুপাশে বিশাল খালি প্রান্তর। সেখানে বিচরণ করছে বেশ কিছু চিত্রা হরিণ। কয়েকজন রাখাল ওগুলো দেখাশোনা করছেন। দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জনের জন্য হরিণগুলো রাখা হয়েছে। কোমল রোদ্দুর মাথায় নিয়ে হেঁটে চললাম সমাধিস্থলে। সামনে একটি স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা। চারপাশে বড় বড় বারান্দাবিশিষ্ট সমাধির সৌধটি বিশাল আকৃতির। পুরোটাই শ্বেতপাথর, লালপাথর ও জেডপাথরে তৈরি। মুঘল সম্রাটদের অন্য স্থাপত্যগুলোর মতো এর দেওয়ালগুলোও সুন্দর কারুকার্য খচিত।

শত শত বছরের মুসলিম ঐতিহ্যের কথা মনে পড়ে গেল প্রাসাদটা দেখে। প্রবেশপথের দেওয়ালে সূরা মুলক খোদাই করে লেখা হয়েছে। বহু শতাব্দী ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সৌধটি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে তোলে মুহূর্তেই। মূল কবর একটি অন্ধকারচ্ছন্ন কক্ষের ভেতর। সেখানে যাওয়ার পথটিও কেমন অন্ধকার আর ভুতুড়ে। জুতা বাইরে রেখে প্রবেশ করলাম সেখানে। ভয়ে গা ছমছম করে উঠছিল হঠাৎ হঠাৎ। ভেতরে চলছিল আলো-আঁধারির খেলা। কবরটি মর্মর পাথরে আবৃত। সমাধির ঠিক ওপর বরাবর মিটিমিটি জ্বলছিল পুরোনো আমলের একটি ঝাড়বাতি। সে আলোয় দেখলাম কবরের গায়ে কোরআনের কয়েকটি আয়াত লেখা রয়েছে। দাঁড়িয়ে তা পাঠ করলাম। ঝাড়বাতি ছাড়া ভেতরে অন্য আলো জ্বালানো বা মোবাইলে ছবি ওঠানো নিষেধ। কেমন যেন গুমোট এক নির্জনতা ছেয়ে আছে চারপাশে। একটু আওয়াজ হলেই ভয়ঙ্কর প্রতিধ্বনি ভেসে আসে। মনে হচ্ছিল কক্ষটিও একটি অন্ধকারময় কবর। খুব অসহায় আর নিঃসঙ্গ মনে হলো এক সময়কার প্রতাপশালী সম্রাটকে। কিছু ওজিফা পাঠ করে বেরিয়ে এলাম সেখান থেকে।

বারান্দা ঘেঁষে দুপাশে আরও তিনটি কবর। শিলালিপির লেখা পড়ে বুঝলাম, আকবরের এক বোন এবং শাহজাহানের এক ছেলে ও এক মেয়ের সমাধি এগুলো। আকবর চেয়েছিলেন তার পুরো বংশধরের কবর এখানে হবে। কিন্তু তার সে আশা তার সন্তানরা পূর্ণ করেননি। একেকজনের সমাধি একেক জায়গায় হয়েছে। ছেলে জাহাঙ্গীর শুয়ে আছেন লাহোরে, শাহজাহান তাজমহলে, আওরঙ্গজেব আওরঙ্গাবাদে, বাহাদুর শাহ রেঙ্গুনে আর বাবর আফগানিস্তানে। নিতান্ত নিঃসঙ্গ হয়ে একাকী নিভৃতে শুয়ে আছেন সম্রাট আকবর। ঘন জঙ্গলে ছাওয়া জায়গাটিতে সম্রাট শিকারে আসতেন মাঝেমধ্যে। বিশ্রাম নিতেন এখানে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের বিশ্রাম করার ঘরটি এখনও আছে। নাম কাঁচমহল। শোনা যায়, কাঁচমহল যে পাথর দিয়ে তৈরি তার থেকে রাতের বেলা রঙিন আলো বের হতো। একসময় এতে ছিল কাচের কারুকার্যও। সময়ের গর্ভে হারিয়ে গেছে অনেক সৌন্দর্য। সমাধির ডানে-বামে বড় গেট দুটিও বেশ চমৎকার। প্রধান গেটের মতোই কারুকার্য বিশিষ্ট ও সুবিশাল। কাছ থেকে এর সৌন্দর্যও দেখলাম মনভরে। আশপাশে ফলফলাদি ও বনজ ফুলের গাছ। পাখিরা ডাকছে মধুর স্বরে। সেদিন সিকান্দ্রার বৈকালিক অপরূপ সৌন্দর্য দেখে হারিয়েছিলাম যেন নন্দন মুগ্ধতায়।

সমাধির পেছন অংশটা এখনও ঘন জঙ্গলে ছাওয়া। ওদিকেও একটা গেট আছে। কিন্তু ওটার কেবল ধ্বংসাবশেষ বাকি আছে। ভুতুড়ে হয়ে পড়ে আছে অনেক দিন ধরে। কেউ যায় না ওদিকটায়। আমরা সাহস করে এগোলাম। লতা-গুল্ম ভেদ করে পৌঁছলাম গেটটার কাছে। গেট তো নয়; যেন বিশাল একটা প্রাসাদ। শ্যাওলা ধরে গেছে দেয়ালে। বনজ লতাপাতা ঘিরে রেখেছে পুরো গেটটাকে। মনে হলো বহু বছর ধরে এদিকটায় পা পড়েনি কারও। হাত দিয়ে দেয়াল ছোঁয়ামাত্রই ঝরঝর করে খসে পড়ল কিছু পোড়ামাটি। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলাম। ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করছে ভেতরটায়। দুপাশে কক্ষের মতো বানানো। সেগুলো আরও অন্ধকার। মনে হলো কোনো হিংস্র জানোয়ার ওতপেতে আছে কোথাও। সুযোগ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়বে আমাদের ওপর। সামনে আর অগ্রসর হওয়ার সাহস হলো না কারও। বেরিয়ে এলাম গেট থেকে।

সমাধি প্রাঙ্গণের এক পাশে গাছের শীতল ছায়ায় বানানো হয়েছে কিছু বৈঠকখানা। সেখানে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। সিকান্দ্রা ঘুরে মনের ভেতর অভাবনীয় এক রোমাঞ্চ অনুভূত হলো। যে জায়গাগুলোতে মুঘল সম্রাটরা একসময় দম্ভভরে বিচরণ করেছেন, টহল দিয়েছেন, বিশ্রাম নিয়েছেনÑ সেখানে আমরাও বিচরণ করলাম, বিশ্রাম নিলাম, ছুঁয়ে দেখলাম তাদের হাতে গড়া প্রাসাদ। মনে হলো, এই তো আশপাশেই কোথাও আছেন সম্রাট আকবর! শাহজাদা সেলিম এসেছেন পিতার সমাধি জিয়ারত করতে কিংবা বাগানের আশপাশেই কোথাও মমতাজের হাত ধরে বসে আছেন সম্রাট শাহজাহান। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে প্রায়। গোধূলি রঙে ছেয়ে আসছে আকবরের পুরো সিকান্দ্রা। পাখির কলকাকলি ধ্বনি আরও বেড়ে গেছে। নীড়ে ফেরার সুখে মত্ত তারা। আমরাও ফিরে চললাম মাদ্রাসার উদ্দেশে। আর পেছনে রেখে গেলাম সম্রাট আকবরের শত বছরের ঐতিহ্য সিকান্দ্রাকে।

আমার বাংলা নিউজ  /  ০১ এপ্রিল / ২০১৯

 

About amarbangla

amarbanglanews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com